বৃষ্টির অপেক্ষায়

তুমি থেকো না সেই বৃষ্টির অপেক্ষায়
আমি আসবনা ফিরে তোমার চেনা রাস্তায়,
বদলে যায় গল্প,বদলে যায় কল্প- স্বল্প স্বল্প
কথা আর কবিতার পঙতিমালা।

তুমি থেকো তোমার মত, স্বাধীনচেতা
উড়োউড়ো মনে,মানুষের কোলাহলে-
আমি আসবনা ফিরে তোমার চেনা রাস্তায়
ঘামেভেজা শরীরে…

ক্ষাণিকপরে যুদ্ধ আমার,তরোয়ালবিহীন
বিপরীতে লক্ষাধিক সৈন্য!
এগুতে হবে,নিশ্চিত মৃত্যুজেনে
খুঁজে নাও নতুন রাস্তার নতুন কোন এক রাজা কিংবা মন্ত্রী
নিরুদ্দেশ আমি-

জেনে রাখো,ফিরবো না আমি সেই চেনা রাস্তার চেনা বৃষ্টিতে
তুমি থেকোনা সেই বৃষ্টির অপেক্ষায়…

Advertisements

ভালোবাসা খুঁজে তোরে

দেখেছিলে চোখে আমার,বলেছিলে গল্প তোমার
হারিয়ে শব্দমালা, ভালোবাসা দৃষ্টিহারা
ফিরে ফিরে ভাবি আনমনা
রঙিন অতীতের যতকথা!

তোমারে খুঁজি, সূর্যের প্রথমালোতে
নিয়ন বাতির শেষার্ধে,চোখের রক্তিম জাগরণে
ডাকে ডাহুক, ডাকে পেঁচা
দুজন ভিন্ন পথে দ্বারহারা!

ভালবাসা দূরে দূরে,খুঁজে তোরে মনের ভুলে
দাঁড়কাক একা জাগে
মধ্যরাতে,বৃষ্টিতে।

তুই দূরে দূরে,নাটাইহীন আকাশে
প্রজাপতি ঘুড়ি কাটে
ভালোবাসা কেবল তোরেই খুঁজে
মধ্যরাতে লোডশেডিংয়ে,
একলা বালিশে…

ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ভালবাসা

সারাটা রাত জুড়ে,এসেছিলে ঘুমে
পাশফিরে তুমি,
অন্ধকার মোবাইল স্ক্রীনে !
কিছু কথা ছিলো বাকি,
হয়নি বলা,যাবেনা জাদুর বাক্সে পৌঁছানো
অপারগ আমি, হাঁটতে পাঁশে
ঘড়ির কাটা তোমার হয়ে যেনো ছুটছে
পূর্বনির্ধারিত অচেনা এক শহরে…
 
মর্মর পাতা বর্ষায় ভিজে
চুপটি মেরে নীরবে কাঁদছে
পাশ হয়ে গেলে তুমি,
হলোনা স্পর্শ,কোন শব্দ বিনিময় !
 
পড়ে রয়ে পাতা, কাঁদামাটি আর ভালোবাসা
ফাঙ্গাসে আক্রান্ত, পেলো না আলোর দেখা-
তুমি ভালো থেকো ভালবাসা ❤

আজ নীরার মন খারাপ

আজ নীরার সাথে ব্রেক আপ করতে যাচ্ছি, আমাদের সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিনের,দীর্ঘ ৮ বছর পর মনে হলো আমরা ভুল পথে হাঁটছি, তাই দুজন সম্মত হয়েই বিচ্ছেদের পথে রওনা হয়েছি।
 
আমি নীরার জন্য অপেক্ষা করছি বাসটেন্ডে, ঠিক আগে যেভাবে দাঁড়াতাম, নীরা আসলো, গালে মুচকি হাঁসি, নীরার দিকে হাত বাড়ালাম,নীরা হাত ধরে হাটছে ওভারব্রিজের সিঁড়িতে। আমরা দুজনই তাকালাম দুজনের দিকে,নীরা আজ চশমা পড়েনি,লিপস্টিপ দেয়নি, নীল একটা জামায় খারাপ লাগছে না,তবে চোখ দুটো ফুলে ফেঁপে আছে, চোখে চাপা একটা রাত জাগা আর্তনাদ জেনো ডেকে যাচ্ছে।
 
আমরা দুজন পাশাপাশি ওভারব্রিজে দাঁড়ালাম, রাস্তায় লাল,কালো, নীল বাস ছুটাছুটি করছে, ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে টাকা রোজগারের ধান্ধায়, পেয়েও গেলো একটা। বাসটার নাম বসুমতি, বসুমতি একটা সুন্দর নাম, তবে এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে নামটা বহুমতি হলে ভালো হতো !
 
আমাদের মতো, ট্রাফিক পুলিশের মতো, আমাদের মত বহু, আজ যা ভালো লাগে,কাল তা বিরক্ত লাগে,পরশু মনে হয় গত হওয়া দিনগুলোই হয়তো ভালো ছিলো , এর পরদিন হয়তো আগামীর দিকে ছুটি নয়তো গত হওয়া দিনগুলোতে।
 
আমি ও নীরা ঠাই দাড়িয়ে,হঠাত নীরা বললো
-আচ্ছা এতো মানুষ কোথায় যায় ? পুরুষ-মহিলা সবাই যাতায়াত করে,বাসা কি লক করে যায় নাকি কেউ থাকে ?
– হয়তো থাকে,হয়তো না।
আবার আমরা নিশ্চুপ। মিনিট খানেক পর নীরাকে বললাম চলো লাঞ্চ করি ?
-তুমি খেতে পারো,আমি খেয়ে এসেছি।
-৮ বছরে তো কখনো খেয়ে আসতে না,পাশাপাশি বসে দুজন খাবো বলে অপেক্ষা করতাম
– নীরা উত্তর না দিয়ে বললো- আমার মাথা ব্যথা করছে,চলো হাঁটি
-আমি হাটবো না,এখানেই ভালো লাগছে,দেখো কত মানুষ ছুটছে, রাস্তার যেনো কোন শেষ নেই,আকাশের মতো বিশাল
নীরা নিশ্চুপ তখনো, বুঝলাম ওর ভালো লাগছে না, আমরা হাঁটতে লাগলাম
নীরার দিকে হাত বাড়ালাম,আমার সাথে থাকলে কখনোই ও একা হাটে না,তবে আজ নীরা একাই হাঁটছে।
 
নীরার বোধহয় অনেক মনখারাপ, অবশ্য মন খারাপ হবারই তো কথা, আমরা একটা ফাস্ট ফুড শপে বসলাম,নীরার পেস্টি অনেক পছন্দ, দুইটা অর্ডার দিলাম।
 
নীরা আমার মুখে চামচ এগিয়ে দিচ্ছে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
-অবাক হচ্ছ ?
-নাহ
-এখনো তো আমাদের ব্রেক আপ হয়নি,হবে কিছুক্ষণ পর।
-তা ঠিক, আমিও ওর দিকে এক চাপচ এগিয়ে দিলাম।
 
আমরা ফুসকা খেলাম রাস্তা থেকে, ঝাল করে বাদাম আর চানাচুর ভাজাও খেলাম। আজ কারো মুখে তেমন কথা আসছে না, তাও হাঁটলাম দুজন,আজকের পর হয়তো আর কখনো হাটা হবে না, কেউ সকালে ফোন দিয়ে বলবে না গুড মরনিং, খেয়েছো ? কি করছো ? আজ দেখা করবে ? আমরা আজ থেকে মুক্ত, কেউ কাউকে চিনবো না,জানবো না। যেখানে কারো দীর্ঘশ্বাস এর খবর আসতো সেখানে কে কেমন আছে সেটা হয়তো আর কখনোই জানা হবে না ।
 
 
আমার আর বেশিদূর ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে না,
-নীরা?
-বলো
-বিয়ে কবে করবে ?
-যেদিন বাসায় দিবে
-আমাকে দাওয়াত দিবে না ?
-তুমি আসবে ?
-নাহ
“অথচ এই উত্তরটা কিছুদিন আগেও ছিলো এমন- তুমি আসবে ?
আমি না আসলে তুমি বিয়ে কাকে করবে ?বিয়ে তো হবে না,তুমি লগ্নভ্রষ্ট হবে”
 
আমরা আরো খানিকটা হাঁটলাম
আজ রাস্তার মন খারাপ মনে হচ্ছে, গাড়ি গুলোর গতি অস্বাভাবিক লাগছে, কেমন জেনো সব এলোমেলো, হাঁটতে হাঁটতে একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম।
 
-আচ্ছা আমাদের ব্রেক আপের কারণ ?
-তেমন কারণ নেই,তুমি কিছু পেয়েছো ?
-তাইতো তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম,যদি কেউ জিজ্ঞেস করে ব্রেকআপ কেন করেছি ?
– তুমি আর আগের মতো নেই !
-তুমি ও তো নেই
-আর কি কারণ ?
-আগের কারণের উত্তর কি জানো ?
-কি ?
-আমাদের সম্পর্ক অনেক বেশি বছর হয়ে গেছে, তোমার পজিটিভ নেগেটিভ সব দিক আমার জানা,ঠিক তোমারো, আমরা ভালো দিক খুব কম মনে রাখি, মাথায় কেবল খারাপ দিকগুলোই বারবার ফিরে আসে, আর এতো বছরের খারাপ দিক গুলো জমে জমে বেশি হয়ে গেছে, তাই ভালো কিছু স্থায়ী হবার সুযোগ পায় না।
 
– ঠিক বলেছো। আর একটা দিক হলো তুমি আমাকে সময় দেও না আগের মতো, আগে কত কি করতে আর এখন ?
 
-এটার ও উত্তর আছে, আগে আমরা দুজনই টিন এজার ছিলাম, ভয় ছিলো কম, উদ্ভট কিছু করে বসতাম আর এখন দিনদিন আমরা ম্যাচিউরড হচ্ছি, নিজেদের নিয়ে ভাবতে শিখেছি, চাকরিজীবী হয়েছি, অনেক দিক ভাবতে হয়, ভাবনাগুলোতে প্রায়োরিটি জন্ম নিয়েছে,ভালোবাসা আগের মতোই আছে কিন্তু অন্য ভাবনা গুলো কিছুটা সময় দখল করে নিয়েছে।
-হুম
-আর ?
-আর তো কারণ পাচ্ছি না
– তাহলে ব্রেকআপ টা আজই করছি তাইতো ?
-হ্যা
 
আমরা দুজন আবারো হাঁটছি, নীরা বললো চলো শপিং করি
-তুমি করো আমি কিছু কিনবো না
-আমি তোমাকে একটা কালো শার্ট কিনে দিবো, এটাই আমাদের শেষ স্মৃতি। আমি যখন থাকবো না, শার্ট টা তুমি যখনই পরবে মনে হবে আমার কথা,আর ভাববে আমিই সঠিক ছিলাম, তখন আর আমাকে বা আমার মতো কাউকেই খুজে পাবে না। হয়তো আমার চেয়ে ভালো পাবে হয়তো খারাপ কিন্তু নীরা তোমার জীবনে একটাই থাকবে।
 
আমি নীরাকে আর কিছু বলতে পারলাম না,নীরা ক্যাটস আই থেকে ২৩০০ টাকা দিয়ে একটা কালো শার্ট কিনে দিলো। আমিও নীরাকে একটা কালো শাড়ি কিনে দিলাম একই কারনে।
 
আমরা হাঁটলাম অনেকটা তবে হাটানুযায়ী কথা খুবই কম বলছি। এর মধ্যে অকারনেই রাগারাগি হয়ে গেলো ক্ষানিকটা কোন প্রকার কারণ ছাড়াই।
 
নীরা বললো
-তুমি ভূড়ি কমাবে,একটু কম করে খাবে। আর হ্যা, তোমার চেহারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,রাতে একটু ঘুমিয়ো প্লিজ,আর রাত জেগো না
-তুমিও সাবধানে যেয়ো,রাস্তা সাবধানে পার হয়ো আর সম্ভব হলে পৌঁছিয়ে একটা ফোন দিও।
-আচ্ছা, সামনাসামনি এটাই কি আমাদের শেষ কথা ?
-হুম ! আচ্ছা আমার একটা নেগেটিভ দিক বলে যাও যাতে অন্য কাউকে বিয়ের পর এটা ঠিক করতে পারি।
-তুমি অনেক রাগি,হুটহাট ডিসিশন নাও, অনেকটা ভয়ঙ্কর, কিন্তু তোমাকে দেখে তা মনে হয়না। আমি জানি তুমি কতটা ভয়ঙ্কর ! কিন্তু তাও কেনো জানি তোমার উপর মায়া কাটাতে পারি না।
 
– হ্যা জানি, ভয়ঙ্কর মানুষদের উপর মায়া জন্মে ,কখনো ভালোবাসা জন্মে না।
-প্লিজ কথা পেঁচিয়ো না,তোমার সাথে কথায় আমি পারবো না।
– আমার উপর কোন কমপ্লিমেন্ট করবে ?
-আমি ক্ষানিকটা ভেবে উত্তর দিলাম “না” ।
-আমাদের শেষ কোন কথা ?
– আমি মরে যেতে চায়, পাখির গানে, সূর্যাস্তের সাথে যেখানে গেলে কেউ কাউকে আর ছেড়ে যায় না।
– নীরা আর কথা বাড়ালো না, নিশ্চুপ বাস চলা দেখছে। আচ্ছা আমাকে কি বাসে উঠিয়ে দিবে ?
-আর একটু খানি দাঁড়াবে নীরা? রাতের নিয়ন বাতিতে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।
-হুম
-আমার হাতটা একটু ধরে দাঁড়াবে নীরা ?আমার শরীরটা কাপছে।
নীরা আমার হাত ধরে দাড়ালো, আর বললো- তোমার কি আমাকে কিছুই বলার নেই ?
– আছে
– কি ?
– ব্রেক আপ ডেট টা কি কিছুটা পেছানো যায় ? ধরো ১৪ ফেব্রুয়ারী, আমাদের তো কোন এক ১৪ তারিখেই পরিচয় হয়েছিলো তাইনা ?
– ওকে তাহলে একটা শর্ত আছে আমার।
– কি ?
– তুমি ১৪ তারিখ আমার দেয়া কালো শার্ট টা পরে আসবে আমিও তোমার দেয়া শাড়িটা পরবো।
– আমি মুচকি হাসলাম
– আর হ্যা,তোমাকে নিয়ে আরেকটা কথা বলতে চায় ?
– কি ?
– এতো চিবিয়ে চিবিয়ে হাসো কেন ? মন খুলে হাসতে পারো না ?কথা বলতে পারো না ?
– যেমন?
– যেমন হলো এভাবে –নীরা আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া আমি বাচতে পারবো না,প্লিজ ব্রেক আপ করো না, আমি তোমার পাশে সারাজীবন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে চায়। তুমি বলো তো!দেখি বলতে পারো কিনা !
– আমি কি সারাজীবনই দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি দুজন একটা বাসায় থাকবো ?
– তুমি কি চাও ?
– যা তুমি চাও !
– তুমি বলো তুমি কি চাও
– আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবে নীরা ? আমার অনেক ভয় হচ্ছে, মনের ভেতর বৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
– আহ আসছে ব্রেকআপ করে জড়িয়ে ধরতে তাও আবার এতো মানুষের সামনে,বাসে উঠিয়ে দাও,রাত হয়েছে আমাকে যেতে হবে।
– সাবধানে যেয়ো,রাস্তা সাবধানে পার হয়ো।
– আচ্ছা ❤
– বাস ছুটছে নীরাকে নিয়ে, মিনিটখানেক পর মোবাইলটা বেজে উঠলো
– হ্যালো নীরা- কোথায় বসেছ ? পাশে পুরুষ নাকি মহিলা ?
– পুরুষ
– হুহ,একদমই কথা বলবে না কিন্তু, আর ফাকা হয়ে বসো,গায়ে জেনো গা না লাগে…।
– কেন কেন ? আমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বসবো,আমাদের তো ব্রেকআপ।
– মাইর চিনো ? বউ পিটানো আবুইল্লার মতো পিটামো এইসব আবার বললে
– আমিও পারি পিটাইতে…।। হুহ, আচ্ছা
প্রতিবার যাওয়ার সময় তোমার এতো মন খারাপ হয় কেনো ?
– এটাই ভালোবাসা, বুঝছো………।। ❤ ❤
 

রূপা

আমার হুট করেই বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,তবে বিয়ের জন্য এ মুহূর্তে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
রূপার সাথে আমার আগে কোনদিন কথা হয়নি,দেখা তো দূরে থাক।
ফ্যামিলির রূপাকে অসম্ভব রকমের পছন্দ হয়েছে আর আমিও নিজস্ব কোন পছন্দ-অপছন্দ নেই তেমনটাই জানালাম তাই বাক-বিরুধের প্রশ্নই আসে না।
 
অফিসে ছিলাম, হঠাত মোবাইলটা বেজে উঠলো, অপরিচিত নাম্বার তাই প্রথমবার রিসিভ করি নি, দ্বিতীয়বার মোবাইল বাজতেই বললামঃ
 
-হ্যালো, কে বলছেন ?
-অপরপক্ষ নিশ্চুপ ছিলো
-আমি আবারো বললামঃ হ্যালো কে বলছেন প্লিজ ?
-আমি
-সরি, চিনতে পারি নি,একটু বিস্তারিত ভাবে পরিচয় দেয়া কি সম্ভব ?
-আমি রূপা !
-ক্ষাণিকটা ভেবে ! হুম কেমন আছেন?
– হুমম ভালো, আপনি ?
– আমি ভালো ।
– কি করছিলেন ?
-অফিসে অফিশিয়াল কাজ করছিলাম
-বিরক্ত করছি না তো ?
-হুমম নাহ, বিরক্ত কেন করবেন! কিছু বলবেন ?
-নাহহ। আচ্ছা আমি এখন রেখেই দেয়,আপনি বরং ফ্রি হয়ে ফোন দিবেন,কেমন ?
-আমি তেমন ব্যস্ত না,চাইলে আপনি কথা বলতে পারেন।
– আচ্ছা
 
প্রথম দিন খুব একটা বেশি কথা হয়নি আমাদের, তবে রাত্রি থেকে কথার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।আমাদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক হয়েছে ২৮শে ফেব্রুয়ারি।
 
বিয়ের দেরি আরো প্রায় ১ মাস, এর মধ্যে ডিসাইড করলাম আমরা একদিন দেখা করবো দুজন।তবে আমার দেখা করার কোনরূপ ইচ্ছায় ছিলো না,বিয়ে যেহেতু করতে হয় তাই করবো এমনটাই মনোভাব ছিল কিন্তু কোনএক অজানা কারনে একটা কফিশপে আমি রূপার জন্য অপেক্ষা করছি। রূপার ছবিও দেখি নি তাই রূপাকে চিনতে পারবো কিনা কনফিউশনে ছিলাম।
 
মিনিট খানেক পরেই পাশের চেয়ারে বসতে পারবে কিনা অনুমতি চাইলো, আমি বললাম অবশ্যই।
-আপনি কি আবির ?
-হুম,আপনি রূপা ?
-হ্যা,কেমন আছেন ?
-ভালো
 
রূপা এসেছে রূপালি রঙ্গের একটা জামা পরে,তেমন কোন সাজসজ্জা নেই,ঠোটে লিপস্টিক, চোখে কাজল এমনকি চুল ও বাধা নেই। ঘুম থেকে উঠা ছোট্ট কোন বাবুর দুগাল যেমন কিঞ্চিৎ ফুলা ফুলা থাকে তাকেও এমন দেখাচ্ছিলো, দেখলেই দুহাতে গাল টিপে দেই এমন একটা ইচ্ছা। সে যায় হোক, কৃত্তিম রঙ বিহীন রূপাকে,রূপালী ড্রেসে অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছিলো।
 
অনেকক্ষণ কথা হলো আমাদের মাঝে, তবে একটা বিষয়ে সে সাময়িক বিস্মিত,কেন আমি তাকে না দেখেই বিয়ে করতে যাচ্ছি,সে প্রশ্নের তেমন কোন উত্তর দিলাম না ।
এর মধ্যে বেশ কয়েকদিন আমাদের দেখা হয়েছে আর ফোনে কথা প্রতিদিনই হচ্ছে, আমার-তার পছন্দ-অপছন্দ- পূর্ব -ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদি।
 
আমাকে বিয়ের পর কি করতে হবে,কি করা যাবে আর কিকি যাবে না সেই বিষয়ের মৌখিক চুক্তিপত্র ও হয়ে গিয়েছিলো ।
 
প্রতিদিন অফিস শেষে তাকে চকলেট এনে দিতে হবে, প্রতিদিন ভোরে কিংবা সন্ধ্যায় দুজনে জগিং করতে হবে,
দিনে ২ বেলা রুটি-সবজি খেতে হবে,বাইরের ভাজিপুরা একদমই খাওয়া যাবে না,মাসে একটা রূপালী কিংবা লাল শাড়ি কিনে দিতে হবে আর আমাকে স্পেশাল দিনে পাঞ্জাবী পরতে হবে।
 
আমি শুনে যাচ্ছি,
-সবকি আমিই বলবো ?তুমি কিছু বলো ?
-কি বলবো ?
-বিয়ে আমি আমি একাই করছি ?তোমার কি আমার উপর কোন আগ্রহ নেই
-আমি অন্যমনষ্ক ছিলাম।
-হ্যালো
-হ্যা কি বলছিলে যেনো ?
– বলছিলাম আমার ব্যাপারে কি তোমার কোন আগ্রহ নেই ?
 
-হ্যা আছে বৈকি, নিউমার্কেট খুব সুন্দর লাল বেনারসী, গায়ে হলুদের শাড়ি পাওয়া যায়, বিয়ের সকল জিনিসপত্র,আমি আর তুমি গিয়ে একদিন শপিং করে আসবো। আর আমাদের বাসায় একটা ওয়াশিং মেশিন কিনতে হবে কারন আমি চাই না তুমি কষ্ট করো,আর একটা এসি,আমি গরম একদমই সহ্য করতে পারি না অনি ।
 
-অনি ?
-হ্যা?
-কি বলছো ?
-অনি বললাম, রূপা আর অনিতে অনেক মিল,তোমাকে কি আদর করে অনি ডাকতে পারি না ?
-হুম তা পারো ,আচ্ছা আর কি কি প্ল্যান
-হুমম,আমাদের তো অনেক প্ল্যান,প্রতি শুক্রবার আমরা দূরে কোথাও ঘুড়তে যাবো, আমাদের একটা গাড়ি হবে,আমি অফিস যাওয়ার সময় তোমাকে তোমার অফিসে ড্রপ করে দিবো আর আসার সময় নিয়ে আসবো আর যখন তোমার নাইট ডিউটি থাকবে আমি তোমার অফিসে সারারাত বসে চুপি চুপি তোমাকে দেখে আসবো ।
 
– আবির ?তোমার কি শরীর খারাপ করেছে ?
-কই না তো, কেন বলতো ?
-নাহ। মানে তোমাকে তো বললাম আমি কোন চাকরি করবো না, তুমি অফিস,নাইট ডিউটি কি বলছো এসব ?
-ঠিকই ত বলছি,কেন ?তুমিই তো বলেছিলে আমাকে ?
– আবির,তুমার কি জ্বর হয়েছে ? কাল কি দেখতে আসবো বাসায় ?
-নাহ, আই এম ওকে 🙂
 
রূপা আমার বাসায় এসেছে,
আজ অফিস যায়নি আমি ।
আমার সত্যিই অনেক জ্বর উঠেছে। রূপা আমার গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,
আমি জোর করে রূপার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছি,
কপালে আরো জোরে হাতটা ধরে রেখেছি ।
রূপা তুমি কি অনির মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে ?
 
রূপা এক হাত আরো শক্ত করে আমার একটা হাতে আর অন্য হাত আমার কপালে আরো জোর করে ধরে বলছে,
না আবির,
আমি যাবো না,অনির মতো ।
 
তাহলে প্লিজ আমাকে আরো শক্ত করে ধরো,প্লিজ আরো শক্ত করে।
রূপা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে
আর আমার মনে হচ্ছিলো,
 
দেয়ালে টানানো অনির সব ছবি যেনো আমাকে আরো শক্ত করে হাতে হাত জড়িয়ে রেখেছে আর আমি ঘুমুচ্ছি পরম যত্নে, রূপার সাথে অনি বেশে 🙂

তোমার শহরে রোদ্দুর

তোমার শহরের রোদ্দুরে
জমা থাকুক ভালোলাগা সযত্নে
সূর্য কেনো তুমি মলিন হয়ে
হাসছো মিটিমিটি কঠিন সুরে ?
 
কাঁচা পেঁয়াজ আর সরিষার ঝাঁঝে,
ভালোবাসা জমে তুমি শীতের শিশিরে,
দেখো হাসছে সূর্য-মধ্যাহ্নে-
উষ্ণ ঠোঁট আর আলিজ্ঞনে
আমি-তুমি একই চাঁদরে ❤
ভালোবাসা কথা বলছে দেখো ভেজা চুলে,
কাঁটা ঠোঁটে সূর্যের মলিন হাঁসিতে
একই জানালার ফাঁকে আসা সূর্যের আলোতে
কিংবা, জানালায় গ্রীলের ফাঁকে শীতের কাঁপুনিতে ,
 
ভালোবাসা লেগে থাকুক তোমার ঠোটে,মুখের চোখের হাঁসিতে
তোমারই শহরের কোন রোদ্দুরে…

ভবঘুরে ইচ্ছেগুলো আজ অর্ধমৃত

তোমার গল্প শুনার ইচ্ছে নেই কোন,
আমার গল্প আজ অর্ধমৃত
ভবঘুরে ইচ্ছে আর কল্পনাগুলো
নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ক্রন্দনরত,
 
সুউচ্চ আকাশ, আর জড়ো হওয়া ঠোট
শীতের আলিঙ্গনে আলসে হয়ে,
ছুটছে সময়ের পিছু!
 
আমি একা, বড় একা
যেমনটা ছিলাম কালবেলা,
কেবল গিরগিটি বেশে, রূপ বদলিয়ে
অভিনয়ে আমিই রাজা, আমার রাজত্বে!
 
ছুটে চলা, দূর বহুদূরে
অভিমানী মনের রাগ ভুলে
দরজাবন্ধী আমার শহরে, কাঁদছি আমি
আমারই নির্মম বহুরূপী রূপে
 
দেয়ালের অপাশের হাসি শুনে
ফাটছে এ মন না বলা কথা ভেবে।
 
ইচ্ছেগুলো সব রাতজেগে
কবিতা লিখছে মৃদুহাসি হেসে,
 
তুমি থেকো তোমার গল্পে
আমি হাটছি অজানা গন্তব্যে,
যদি হয় দেখা ফের, গোল আলুর দেশে
ভেবে নিও হেরে যাওয়া দাঁড়কাক জেগেছিল রাত্রিশেষে,
কেবল বদলানো রূপে, নতুন গিরগিটি বেশে 🙂

মেঘ বৃষ্টি ও ভালোবাসা

মেঘাকে আজ মোটেও মনে পড়ছে না, ও আমার উপর ভীষণ রাগ করেছে, এমনকি প্রতিজ্ঞাও করেছে,

আমার সাথে আর না !

আমিও রেহাই পেয়েছি, বাপরে এতো ঝগড়াটে মানুষ হতে পারে !

আমিও ক্লান্ত, রাগ করেছে করুকগে, থাকবে না আমার সাথে, না থাকুক। এ ক’টা দিন শান্তিতে থাকা যাবে। বাসায় বাজার করার ঝামেলা নেই, ইচ্ছেমতো বাইরের খাবার খাবো, না করার কেউ নেই।

রবী ঠাকুরের একটা উপন্যাস পড়বো আর দু-এক প্যাকেট বেনসন, শীতের রাতে কেটলিতে গরম পানি রেখে দিব, চাদর গায়ে বেলকনিতে বসে উপন্যাস পড়বো, চাঁদ দেখবো আর সিগারেট ফুঁকবো।

যেই বলা সেই কাজ, অফিস নেই এখন আর, বলা যায় বেকার তাই টাইম নিয়েও এতো ঝামেলা নেই, চলে এলাম লাইব্রেরি তে… অনেক ঘাঁটাঘাঁটির পরও রবী ঠাকুরের কোন প্রেমের উপন্যাস বের করতে পারলাম না।

মনঃস্থির করলাম, প্রেমের উপন্যাসই পড়বো।

কিনে নিলাম একটা বই, তবে লেখকের নাম আগে কখনো শুনেছি বলে মনে পড়ছে না, তরুন প্রজন্মের কোন লেখক হবে হয়তো আবার এমনও হতে পারে এটাই তার প্রথম বই।

বইটা নেয়ার প্রথম কারণ হলো-বইয়ের নামটা “মেঘ বৃষ্টি ও ভালোবাসা” অকারণেই আমার বেশি ভালো লেগেছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, গল্পে নায়িকার নাম মেঘা, আর মলাট টা অদ্ভুত, অস্পষ্ট একটা নারী যেনো মায়াবী চোখে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে, আশ্চর্য হলাম, মেঘা নামের কোন মেয়ে এতো মায়াবী কি করে হতে পারে !

রাত তখন প্রায় ১০ টা, মেঘাকে ফোন দিলাম, ও ফোনটা রিসিভ করে নি,উল্টো কেটে দিয়েছে। ভাবতেই রাগ দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এখনো এতো রাগ ! আর দিবই না ফোন ওকে, হহুহ !

বেলকুনির দোলানো বেতের চেয়ার টাই হেলান দিয়ে বসলাম, বাসার সব লাইট বন্ধ করে বেলকুনির ৬০ পাওয়ারের পুরাতন বাতিটা জ্বেলে দিয়েছি, টুংটাং আওয়াজে মেঘার ছোট্ট একটা মেসেজ এসেছে,

“খেয়ে নিও, আমি খেয়ে নিয়েছি- তোমাকে অনেক মিস করছি আমি, কিন্তু রাগ করে এসেছি তো, তাই তোমাকে যে মিস করছি সেটা বলবো না”

আমিও এই মুহূর্তে মেঘার উপর ভয়াবহ রেগে আছি, তাই রিপ্লাই কখনোই দিবো না ওকে।

আমার বেশি রাগ হলে সিগারেট খেতে হয়, অনেক আগে থেকেই অভ্যেস, কিন্তু দিয়ালশাই যে কোথায় রাখলাম !

চিৎকার করে মেঘাকে ডেকে বললাম, মেচ টা দিয়ে যাও তো একটু, নিঃশব্দে নিজেই লজ্জা পেলাম, মেঘাকে কেনো ডাকছি, রান্নাঘর থেকে খুজে নিজেই দিয়াশলাই নিয়ে এলাম সাথে একটা মগ আর স্ট্রে।

 

যাইহোক, ঘড়ির কাটা বেয়ে চলছে, আমার কাজে আমি মনোযোগ দিলাম।

 

“মেঘার সাথে পরিচয় কোন এক ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ, তখন আমি ছাত্র, বয়ঃসন্ধি কালের যৌবন যেনো দু কাঁধে প্রবল বেগে ভর করেছে।

আর কতদিন প্রেমবিহীন থাকবো ! যৌবন শেষে বার্ধক্যে আমাকে কে বিয়ে করবে ? এদিকে আমার বন্ধু শিশির, শিশিরের কণা হয়ে গেছে,তাকে এদিক ওদিক কোথাও পাওয়া যায় না, কোথায় থাকে সে,সেটা কেবল ভবিষ্যৎ ভাবীই বলতে পারে।

সাইকেলের পেছনের সিটটাও ফাঁকা, কাউকেই কি বসাতে পারবো না এই সিটে !

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৪ টা, প্রাইভেট আছে একটা, কিন্তু ব্যাচে কোন মেয়ে নেই, সব ব্যাচেলর ছেলে, সো যাওয়ার ইন্টারেস্ট শূন্যের কোঠায়,

কিন্তু হায়, পরিক্ষা,

কে দিবে শিক্ষা,

করিতে হবে পাশ,

তাই অগত্যা রওনা দিলাম

কুয়াশা ঘেরা দীর্ঘশ্বাস ।

পথমধ্যেই ব্রেক করে দাঁড়ালাম, লাল সোয়েটারে একটা মেয়ে ! সাথে গোটাকয়েক বান্ধবী

বান্ধবীগুলো আমার ও পরিচিত দেখে,মনে বেসুরা গিটার বেজে উঠলো ।

পরিচিত হলাম, মেঘার সাথে।

কথা হলো,গল্প হলো, পড়ন্ত বিকেল ক্লান্ত হলো,  আমরা হেঁটে চলছি, বাসা পর্যন্ত পথ আমাদের সাথী হলো, মোবাইল অপারেটর মুখ ফিরে চাইলো।

Hi, Ami Anik, amake aj tomar kemon legeche ?

উত্তর আসলো হা হা, তুমি এমন ভাবে টাইপ করো কেন ? এভাবে টাইপ করো- Hi,m Anik, amk aj tmr kmn lgche ? okey ?

আমি লজ্জা পেলাম, নাহ…আমি শর্টকাট ই লিখতে চেয়েছিলাম, ভাবলাম যদি তুমি না বুঝো !

উত্তর আসলো এবারও হাহা, ঘড়ির কাঁটায় ১২ টা, ০১৯১২… নাম্বার থেকে একটা ফোন,হুম নাম্বারটা মেঘার। ফিসফিস করে আওয়াজ এলো, বাসায় কথা বলতে একটু প্রবলেম হয় তো তাই এভাবে বলতে হচ্ছে।

নাহ,নাহ সমস্যা নেই, বিস্তারিত গল্প হলো, মেঘা ছিলো আমার প্রথম,মধ্য ও শেষ প্রেম তাই অনুভূতি কখনোই বুঝানোর মতো না, চাঁদ এবার সঙ্গ পরিত্যাগ করে সূর্য কে আমন্ত্রণ জানালো, আমি আর মেঘাকে।

আচ্ছা, কাল কি আমাদের দেখা হতে পারে ?

হ্যা,তুমি এখানে থেকো

আজ মেঘা এক চাঁদর গায়ে দিয়ে এসেছে,ওকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে । হাঁটলাম দুজন বেশ কিছুক্ষণ,

কখনো এগ্রিভারসিটির পার্কে, কখনো বা বৃহত্তর কোন শহরের বৃহত্তর কোন নদের পাশে থাকা বেঞ্চিতে বসে কেটে গেলো ৮ বছর”

 

সূর্য তখন আকাশে লাল মায়া বিছিয়ে রেখেছে, আমি আরেক মগ কফি বানিয়ে নিলাম,সাথে আরেকটা বেনসন, ভোর রাতে গা কাঁপুনি দিয়ে ঠাণ্ডা নামে,

বেলকুনির উপরে থাকা চড়ুই পাখি কিচির মিচির আওয়াজ ভালোই লাগছে, কিন্তু আজ দিনটা একটু অকারণেই অন্যরকম ,কি রকম জেনো, কিছু একটা মিসিং মিসিং কিন্তু কি মিস করছি বুঝে উঠতে পারছি না।

বইটা ভাঁজ করে পাশের টেবিলে রেখেছি,আজ রাতে বাকিটা পড়বো বলে। হঠাত কলিংবেল বেজে উঠলো।

 

এই সাত সকালে কে আসতে পারে ? দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম

৭ টা ০৫ মিনিট।

দরজা খুলে দেখি মেঘা ! অবাক হলাম আবার খুশি ও হলাম, তার সাথে বিরক্তির ভাব নিয়ে-

– তুমি ?আজ কেন ? তুমি না আর আসবে না ?

-আমি ভেবেছিলাম আমাদের এনিভারসারি তে তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিবে ।

-ভাবো কেন ?ঝগড়া করার সময় মনে থাকে না ?

– আমি ঝগড়া করেছি নাকি তুমি ?

-কি বললে ?আমি ঝগড়া করি ?

– ওয়েট ওয়েট, আচ্ছা আমরা দুজনই কি ঝগড়া করেছি ?কিন্তু কখন কি নিয়ে করলাম মনে করতে পারছি না, তোমার মনে আছে ?

-আমিও অনেক ভাবলাম,কোন ভাবেই মনে করতে পারলাম না, কি নিয়ে আমরা ঝগড়া করছি আর করে যাচ্ছি ।

– এটা নতুন কিছু না, যাইহোক কেক কোথায় ?

-কিসের কেক ?তোমার জন্মদিন ছিলো ?

– মানুষ কি জন্মদিনেই কেক কাটে ?

– বুঝছি,ড্রিংঙ্কস করেছ ? ছি এতো গন্ধ কিসের ?দেখি দেখি-তুমি কয়টা সিগারেট খেয়েছ ?

– না মানে ১ টা, না না-২ টা

– দুই টা নাকি দুই প্যাকেট ! তুমি আমাকে একদমই ভালোবাসো না,ভালোবাসলে আমার কথা অবশ্যই শুনতে।

-তোমাকে ভালোবাসি না আমি ? তাহলে কে বাসে শুনি ?

-আমাকে সন্দেহ করো তুমি ?

-নাহ কি বলো,এই বুড়িকে সন্দেহ করা যায় ?

 

আবারো কলিংবেল বাজলো, দরজা খুলে দেখি আমাদের ১ ছেলে আরেক মেয়ে বাচ্চাগাচ্চা সহ, সাথে বেলুন, পার্টিস্প্রে, মাথায় টুপি। -দিন দিন অদ্ভুত সব পাগলামি ।

 

  • এগুলো নিশ্চয় তুমি বলেছ ?
  • না তো, এই এগুলো তোরা এনেছিস কেন আর এতো সকালে বাসায় ?অফিস যাস নি ?
  • না মা,আজ ছুটি নিয়েছি, তোমাদের ৭০ তম এনিভারসারি বলে !

আমরা খুশি, নাতি নাতনী গুলো পারলে এখনই লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।

-কই মেঘা,রান্না করো গিয়ে,আজ তোমার এনিভারসারি !

-তুমি যাও, এনিভারসারি মনে হয় আমার একার,আসো সবজি কেটে দিয়ে যাও আর আমি রাঁধি J

নিশি

বাসের মানুষগুলো জানালা দিয়ে মাথা বের করে কেমন যেনো আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, আমি হেটে চলছি,
চোখে পাওয়ার দেয়া মোটা গ্লাসের রেবন ফ্রেমের সানগ্লাস, টাওজার,ক্যাটস আই এর আয়রন ছাড়া শার্ট, আর পায়ে দু রকমের এক জোড়া জুতো। একটা কালো কালারের অন্যটা নীল।
 
মানুষের বিশ্রী হাসি দেখে নিজেকে দেখতে লাগলাম, হঠাত করেই অদ্ভুত স্টাইল খেয়াল হলো।
 
সে থাকগে, আমি এমনই!
আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে, আজ নিশির সাথে প্রায় ৪ বছর পর দেখা হতে যাচ্ছে।
প্রায় ৪ বছর পর নিশি আমাকে ফোন দিয়েছে! যার জন্যে আমি এতোটা বছর অপেক্ষা করে ছিলাম। তাই আমাকে কেমন দেখাচ্ছে সেটা কোন বড় ব্যাপার নই।
 
আমি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে হেটেই রওনা দিয়েছি, ওর সাথে দেখা হবে উত্তরা ৫ এর লেকের পাড়ে, যেখানে আমরা প্রায়ই গল্প করতাম।
তাই জ্যামের ভীড়ে হেটে যাওয়াটাই সমীচীন মনে হলো।
তাছাড়া লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে হেটে যাওয়া অনেক শ্রেয়,
 
নিশি মাঝেমধ্যেই আমাকে বলতো আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি, ডায়াবেটিস হবে – তাই হেটেই উত্তরা যাবো সেভাবেই মনস্থির করলাম।
 
আমরা দেখা করবো বিকেল ৪ টাই, তাই আমি ঠিক ১২ টাই রওনা দিয়েছি, উত্তরা ৩ নাম্বারের ট্রপিক্যাল প্লাজায় বড় একটা ওয়াশরুম আছে, সেখানে গিয়ে মাথার চুল ঠিক করে নিবো, আর বডিস্প্রে কেনার নাম করে স্বপ্ন থেকে গায়ে দুফুটা স্প্রে ছিটিয়ে নিবো। ব্যাস!
 
আমি হাটছি খুব দ্রুত গতিতে, যাতে কোন ভাবেই দেরি না হয়ে যায়, নিশি দেরি একদমই পছন্দ করে না,
 
লাস্ট যখন নিশির সাথে কথা হয়েছিলো
 
– তুমি জানো তোমার যে ভবিষ্যতে অনেক ঝামেলা হবে!
-ঝামেলা! কেন বলো তো নিশি
-তোমার নাম কি?
-আমার নাম! মাথা চুলকিয়ে বললাম সৈকত
-মনে আছে?
-নিজের নাম কেউ কখনো ভুলে যায় নাকি?
-তা যায় না তবে তোমাকে নিয়ে আমি কনফিউশনে আছি!
-কনফিউশন! আচ্ছা তোমার নাম কি?
-মজা নেও?
-বা রেহ তুমি আমারর নাম জিজ্ঞেস করলে মজা হবে না আর তোমার নাম জিজ্ঞেস করলে মজা?
-স্টুপিড!
আচ্ছা তুমি তোমার নামের অর্থ জানো?
-হ্যা, জানবো না কেন! ক্লাস ফাইবে শিখেছিলাম, সৈকত হলো বেলাভূমি, নদী বা সাগরের বালুময় তীর, আর কক্সবাজার সৈকতের দৈর্ঘ্য -উমম ৫৫ কিলোমিটার নাকি নটিক্যাল মাইল ভুলে গেছি!
-ঐ তোমাকে আমি দৈর্ঘ্য জিজ্ঞেস করেছি?
-নাহ! আমার যে মনে থাকে সেটা বুঝাচ্ছি।
-হুম। আচ্ছা তোমার কি তীর আছে?
-হা হা, আমি কি সৈকত নাকি যে আমার তীর থাকবে!
-তুমি সৈকত নাহ?
-ওহ সরি, সৈকত
-আমি জানি আর এও জানি, সৈকতের তীর নেই যেমন কেরামত নামের মানুষের কোন মতি থাকে না, আবার আবুল নামের মানুষেরা আবুল হয় না কিংবা বাবু নামের মানুষেরা সবসময় বাবু থাকে না।
 
একদিন হঠাত করেই নিশির সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তাকে অসংখ্য বার ফোন দেই, কোন ভাবেই যোগাযোগ করতে পারি নি,
তার বাসার সামনে যাই, সকাল থেকে রাত অবধি দাঁড়িয়ে থাকি, নিশিতে জোনাক উড়ে, ব্যাঙ ডাকে কিন্তু আমার নিশি কোন নিশিতেই উদয় হয় না!
 
তার বান্ধবীরাও জানে না সে কোথায়, আজ ৪ বছর পর আমাকে ফোন দিয়েছে!
 
ভাবতেই গা শিউরে উঠছে, আজ নিশির সাথে দেখা হবে, কথা হবে, কতশত গল্প লুকিয়ে রেখেছি ওর জন্য ও হয়তো তা জানেই না।
 
আমি ৩.৫০ এই উত্তরা ৫ এ পৌঁছে গেলাম, লেকের পাড়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছি!
আমি জানি নিশি আসবে, ও কখনো মিথ্যা বলে না,
কিন্তু এখনো আসছেনা কেন ও!
 
পকেটে অনেক খুঁজাখুঁজির পর মোবাইল টা পেলাম!
 
কয়েকবার ডায়াল করার পর নিশি ফোন রিসিভ করেছে, বলেছে ও আসছে, জ্যামে আটকা পড়েছে।
 
আমি জানতাম নিশি আসবেই, কারণ ও আমাকে ভালোবাসে, ও মিথ্যা কখনোই বলবে না আমায়।
 
রাত তখন ৬ টা, আমি বসে আছি,
নিশি আজ লাল জামা পড়েছে, আমি নিশির দিকে অপলক তাকিয়ে আছি,
 
আসা মাত্রই নিশিকে আমি জড়িয়ে ধরেছি, জড়িয়ে ধরে কাঁদছি!
 
নিশি কোথায় ছিলে তুমি এতোদিন, না বলে, দেখো আমি কতবার তোমাকে ফোন দিয়েছি, দেখো নিশি, নিশিও কাঁদছে,
 
রাস্তায় মানুষের ভীড় জমে গেছে, কেউ কেউ ভিডিও করছিলো।
 
যা ইচ্ছে করুক, আমি আমার নিশিকে পেয়েছি আজ ৪ বছর পর!
আজ আমরা গল্প করবো, ইচ্ছেমত, সারারাত্র, নিশিতে জোনাক উড়বে, আমরা জোনাক দেখবো, জোনাকিপোকা নিশির অনেক পছন্দ!
 
চারদিকে ঠান্ডা হাওয়া বইছে, আজ অনেক শীত পড়েছে হয়তো,
নিয়ন আলোতে আমরা দুজন গল্প করে চলছি, ৪ বছরের জমানো সব গল্প।
 
মানুষ তখনো হাসছে আমার হাতে কাঠের মোবাইল দেখে আর ৪ বছরের ময়লা এক পুতুল দেখে! মানুষ কেমন করে বুঝবে – ও পুতুল নয়, ও নিশি আমার নিশি ❤
ওকে নিয়ে শতলেখা গল্পের ইতিবৃত্ত মানুষ কেমন করে বুঝবে, নিশি চলে গিয়েও এই নিশিতে রয়ে গেছে সেটা মানুষের বুঝার বা বুঝানোরই বা কি দরকার!
নিশি আমার পাশে বসে, আমি নিশির পাশে- এরচাইতে বড় সত্য অন্যকাউকে বুঝানোর আমার কোন প্রয়োজন নেই 🙂

যুদ্ধে নয়, সন্ধি স্থাপন

আমি ছোট খাটো তোমাদেরই অধীন কোন এক রাজ্যের সেনাপতি ,
আর তুমি !  – রাজ্যের রাজকন্যা
সম্রাট কন্যা।
 
তৃতীয় কোন রাজ্যের সম্রাটপুত্র যুবরাজ রেখে
ছোট -খাটো তোমার অধীন রাজ্যের সেনাপতির সাথে মিলন – এ কি করে সম্ভব!
মহামন্ত্রী – মহাঋৃষি আপনার কি অভিমত?
শনি রাহু – আর আপনার গণনা কি বলে?
 
আকাশে মেঘ, রাতে সূর্য, দিনে চন্দ্র, মাটি কম্পনরত
মহারাজ, মহারাজ – ক্ষমা করুন আমাকে!
 
তোমাকেই শিরচ্ছেদ করা হোক তাহলে!
 
মহারাজ, ভাগ্যের লিখন কি করে খণ্ডাবেন ,
দয়াকরে শিরচ্ছেদ করবেন না ,
মেনে নিন ভাগ্য আর নিয়তির নির্মম গল্প কে !
 
মহারাজ অধীর, চিন্তারত- 
এই যদি হয় ভাগ্য,তবে ভেবে দেখবো ক্ষণে
ঘোড়ায় চড়ে আসতে বলো সেনাপতিকে
যুদ্ধে নয়, সন্ধি স্থাপনে ❤

welcome to my blog ! read more & stay with me (কপিরাইট আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ-কপিরাইট থেকে বিরত থাকুন)